BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
Friday , January 20 2017
Loading...
Home / অন্যান্য / রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্ববাসীর কি কিছুই করার নেই?

রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্ববাসীর কি কিছুই করার নেই?

ভয়াবহ এক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একাংশ। তারা সেখানে সংখ্যালঘু, তারা মুসলমান- এই তাদের অপরাধ। রোহিঙ্গা নারীরা জানান তাদের নির্যাতনের কথা বলতে এখন আর  লজ্জা হয় না। গণধর্ষণ সেখানকার নিত্যদিনের ঘটনা। মহিলারা সেখানে সম্ভ্রম বাঁচানোর লড়াই নয়, জীবন বাঁচানোর পথ খুঁজছে। স্বজনের লাশ কবর দেওয়ার সুযোগও পাচ্ছেন না কেউ। আগে তারা হত্যা করে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিত। এখন লাশ তারা তুলে নিয়ে যাচ্ছে গাড়িতে। তারপর মাটি চাপা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও  ভুক্তভোগীরা জানান, রাখাইন রাজ্যের মুসলিম গ্রামগুলোতে যেন সাক্ষাত আজরাইল নেমে এসেছে। গ্রামের পর  গ্রাম এখন ধ্বংসস্তূপ। যারা পারছে জীবন বাঁচাতে গভীর জঙ্গলে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে রাতের আঁধারে। তারপর দালালদের হাত-পা ধরে নাফ নদী পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু অধিকাংশ সময় ভাগ্য তাদের সহায় হচ্ছে না। কেননা পালানোর সময় নদীতেই বিজিপির গুলি তাদের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। অভুক্ত, ক্ষুধার্ত ও সহায় সম্বল, স্বজন হারানো মানুষ ভাসছে নদীর ওপর অজানা ভবিষ্যতকে সঙ্গী করে। তারা জানে না কোন গন্তব্যে গেলে সমস্যার সমাধান মিলবে; বাঁচবে জীবন।

মানুষ মানুষকে কেন হত্য করছে? কে দেবে এর জবাব? পৃথিবীর মানুষ আমরা কীভাবে দাবি করি যে, আমরা সভ্য। বনের সেই আদিম মানুষ তারাও তো এ রকম ঘটনা কখনও ঘটায়নি; অন্তত এ রকম কিছুর প্রমাণ আমরা কোথাও পাই না। এখন মানুষ সভ্যতার শীর্ষে অবস্থান করছে!  আর নিকৃষ্টতম উপায়ে একদল মানুষ আরেক দলকে চরম অসভ্যের মতো পিষে ফেলছে। এ প্রসঙ্গে ইউএনএইচসিআর অফিসের প্রধান কর্মকর্তা জন ম্যককিসিক বলেন, ‘মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা  পুরুষদের হত্যা করছে, শিশুদের জবাই করছে, নারীদের ধর্ষণ করছে, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করছে এবং লুটতরাজ করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো মিয়ানমারের জাতিগত নিধনের ব্যাপারে এতদিন ধরে যে অভিযোগ করে আসছিল এবার জাতিসংঘও সেই অভিযোগ করছে। শুধু অভিযোগ করে কী লাভ? জরুরি অ্যাকশন, জরুরি পদক্ষেপ দরকার। তা কোথায়?’

এবারের সমস্যা শুরু হয়, গত ৯ অক্টোবর থেকে। নয়জন সীমান্তরক্ষীর হত্যার পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সংখ্যালঘু  রোহিঙ্গা মুসলমানদের সমষ্টিগতভাবে শাস্তি দিচ্ছে। ফলে তারা বাংলাদেশে চলে আসতে বাধ্য হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করতে অনাগ্রহী এবং আমাদের সীমান্তরক্ষীরা তাদের ফেরত পাঠাচ্ছে। ২০১২ সালেও বাংলাদেশকে এ ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছিল। বাংলাদেশ যেহেতু শরণার্শী-বিষয়ক ১৯৫১ সালের কনভেনশনে এবং ১৯৬৭ সালের প্রটোকলে স্বাক্ষর করেনি এবং জাতীয়ভাবে শরণার্থী বিষয়ক কোনো আইন তৈরি করেনি সেহেতু শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে তার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তারপরেও মানবিক কারণে সীমিত সম্পদ দিয়ে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ। পৃথিবীতে যে ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষ দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে-কোথায় যাবে তারা? পৃথিবীতে এক কোটি মানুষের কোনো  দেশই নেই, তাদের সামনে কী পথ খোলা আছে? গত বছর সিরিয়া, লিবিয়া ও ইরাকে সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে যখন লাখ লাখ মানুষ শরণার্থী হয়ে ইউরোপের পথে পা বাড়িয়েছিল, সমুদ্রে ডুবে মারা যাচ্ছিল, তখন আমরা অনেকের সমালোচনা করেছিলাম। এখন কে কার সমালোচনা করবে? গোটা পৃথিবীতেই কি এই অশুরের খেলা চলবে? তাহ

READ  সিটিং সার্ভিসে চিটিংবাজি – বিস্তারিত জেনে নিন

মিয়ানমার সামরিক শাসনের যাতাকলে পিষ্ট হচ্ছে সেই ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই। সমারিক শাসকরা অন্তর্মুখী নীতি পালন করছে। যে কারণে দুনিয়ায় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার যে উত্তরণ ঘটেছে তার ছোঁয়া লাগেনি সেখানে। অতিসম্প্রতি তথাকথিত গণতন্ত্রের উত্তরণ হয়েছে মিয়ানমারের কৃষিতে। মিয়ানমারের জনগণের জীবন ধারনের মৌলিক প্রয়েজনের  জন্য বাইরের দুনিয়ায় মুখাপেক্ষী হতে হয়নি কিন্তু রাখাইন রাজ্যের এগারো লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম  জনগোষ্ঠী তখনও বলতে গেলে নিজদেশে বন্দী জীবনযাপনই করেছে। যদিও তারা কয়েকশ বছর ধরে উত্তর রাখাইনে বাস করছে। মূলত অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতাব্দীতে আরব বণিকেরা  আকিয়াব বন্দর ও এর আশেপাশের এলাকায় বসতি স্থাপন করে। এ বণিক সম্প্রদায় এই এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ, উর্বর ভূমি ও নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার কারণে আকৃষ্ট হয়। একইসঙ্গে তারা এলাকায় বিবাহ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকে। এর মধ্যে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অধিবাসীরা উর্বর অবারিত ভূমির  সুযোগে সহজলভ্য জীবিকার টানে তৎকালীন আরাকন, বর্তমানের রাখাইন রাজ্যে আসতে থাকে। উত্তর রাখাইনের প্রাচীন নাম ছিল ‘রোহাঙ্গ’। যে কারণে এর অধিবাসীরা রোহিঙ্গা নামে পরিচিত। তাই বলে তারা কি মিয়ানমারের অধিবাসী নয়? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশাল জনগোষ্ঠী বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে গিয়ে সেখানকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছে। এই হলো ইতিহাস। এই বাস্তবতা।

১৯৬২ সালে জেনারেল নে উইন সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করলে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তাদের চলাচলে কঠিন শর্ত ও নিয়মকানুন আরোপ করা হয়। এমনকি রোহিঙ্গাদের এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিশেষ কারণে যেতে চাইলে স্থানীয় সামরিক ক্যাম্পের লিখিত অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হতো। তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য, মাছ ও গবাদিপশু তারা হাট-বাজারে বিক্রি করতে পারে না। স্থানীয় মধ্যস্বত্তভোগীর কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। ফলে তারা অর্থনৈতিকভাবে নিদারুণ ক্ষতির সম্মুখীন । এই কারণে  তারা কৃষিকাজে আগ্রহ হারাতে থাকে। রোহিঙ্গাদের ছেলেমেয়েদের বিবাহ দিতে হলেও স্থানীয় সামরিক কর্তৃপক্ষের  কাছে আবেদন করতে হয় এবং বছরের পর বছর অপেক্ষার পরেও অনুমতি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সামরিক সরকার মিয়ানমারের অন্যান্য প্রদেশ থেকে কুখ্যাত অপরাধীদের জোরপূর্বক উত্তর রাখাইনে দলে দলে পাঠিয়ে পুনর্বাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। তারা জোরপূর্বক রোহিঙ্গা মুসলিমদের বাড়ি, ভিটা, জমি দখল করতে থাকে। এভাবে পুরো সময়টিই তারা মানবেতর জীবনযাপন করে আসছে রাখাইন রাজ্যে, কিন্তু দেশ ছাড়েনি। কিন্তু এখন?

জীবন বাঁচাতে তারা সবকিছু হারিয়ে আমাদের দেশে আসছে। কী করব আমরা? মিয়ানমার পৃথিবীর বাইরের কোনো দেশ নয় যে, তারা মানবতার বিরুদ্ধে যাবে। এই মানবিক বিপর্যয় এড়াতে দ্রুত আসিয়ানভুক্ত মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। চীন, ভারত, থাইল্যান্ডকে এগিয়ে আসতে হবে। মালয়েশিয়া ইতিমধ্যে কিছু হাকডাক দিতে শুরু করেছে, তাদের সাথে যোগ দিতে হবে বিশ্বসম্প্রদায়কে। ২০১৫ সালে অসলোতে ডেসমন্ড টুটু, শিরিন এবাদিসহ সাত নোবেল পুরষ্কার বিজয়ীর জরুরি আহবানকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ যদি গুরুত্বের সঙ্গে নিত, তাহলে আরাকানের দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি এড়ানো যেত। ওই নোবেলজয়ীরা জাতিগত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত মানবাধিকার লংঘনকে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং তা বন্ধে মিয়ানমারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যে অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে তার দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করেন।

READ  জয়ললিতার ১০ হাজার ৫০০ শাড়ি,৭৫০ স্যান্ডেল ও ৫০০টি চশমা জব্দ করেছে আদালত

আমরা গণতন্ত্রের কন্যা অং সান সু চির অঙ্গীকারের প্রতি আস্থাশীল থাকতে চাই। মিয়ানমারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেলেও আমরা এখন বুঝি যে, সামরিক বাহিনী আগের কর্তৃত্ব নিয়েই হাজির আছে। সামরিক কর্তৃপক্ষের  সঙ্গে দর-কষাকষিতে তার সামর্থ্য এখনো যথেষ্ট নয়। ফলে মিয়ানমারের ওপর শক্তিশালী আন্তর্জাতিক চাপ কার্যত সু চির হাতকেই শক্তিশালী করবে। তবে, সু চির কাছ থেকে আমরা আরও কিছু আশা করেছিলাম কিন্তু তার সীমাহীন নীরবতা আমাদের হতাশ করেছে। মানবতা যখন ভুলুণ্ঠিত তখন তিনি এভাবে নীরব থাকতে পারেন না। তিনি যখন বন্দী ছিলেন আমরা তাকে নিয়ে বহুবার লিখেছি। তার মুক্তি কামনা করেছি। আজ তিনি সরকারে আছেন অবশ্যই তার কাছ থেকে আমরা আশাব্যাঞ্জক কিছু শুনতে চেয়েও ব্যর্থ হচ্ছি।

রাখাইনের বিতাড়িত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের দালালদের অর্থ দিয়ে রাতের আঁধারে এ দেশে ঢুকছে। টেকনাফ ও উখিয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং আগে থেকে বাংলাদেশে আসা বৈধ-অবৈধ রোহিঙ্গারা নির্যাতিত মানুষগুলোকে বাঁচানো নিজেদের দায়িত্ব মনে করছে। আত্মীয়তার সূত্রগুলো এখন প্রবলভাবে কাজ করছে। নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষার জন্য এখানকার আত্মীয়রা ওপারের রোহিঙ্গাদের আসতে সহায়তা করছে। কিন্তু বাংলাদেশের তো সবাইকে জায়গা দেওয়ার সামর্থ্য নেই। সরকার কোন দিকে যাবে?

পৃথিবীতে অনেক ধনী দেশ আছে। অনেক মুসলিম ধনী দেশ আছে, অনেক শক্তিশালী দেশ আছে কিন্তু বিশ্বের যে কোন প্রান্তেই হোক মানবিক বিপর্যয়ের কোন ঘটনা ঘটলে এসব দেশগুলোকে খুব অ্যাকটিভ ভূমিকায় দেখি না। কয়েকটি দেশ তো একেবারে ঘুমিয়েই থাকে। আবার কয়েকটি দেশ আছে যারা নিন্দা করা, অনুরোধ করা আর বিবৃতি দেওয়া ছাড়া তেমন কিছু করে না। মিয়ানমার কি বিশ্বসম্প্রদায় থেকে আলাদা? এসব ঘটনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মানবাধিকার কর্মীগণই কিছু একটা করার চেষ্টা করেন। যাদের মূলত বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করানো ছাড়া তেমন কিছু করার থাকে না। কিন্তু মিয়ানমার তাদেরকেও ঘটনাস্থলে ঢুকতে দিচ্ছে না।

হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে নভেম্বরের ১০-১৮ তারিখ পর্যন্ত স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের পাঁচটি গ্রামের ৮২০ কাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। সেনা অভিযানে সব মিলিয়ে এক হাজার ২৫০টি ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। সংস্থাটি রাখাইন রাজ্যে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের প্রবেশ করে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানালেও বর্মি প্রশাসন সেখানে কোনো সাংবাদিক বা ত্রাণকর্মী প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। আলজেরিয়ায় ২০১৫ সালে আট মাসে তদন্ত করে মিয়ানমারে গণহত্যার শক্তিশালী প্রমাণ পেয়েছে। ইয়েল ইউনিভার্সিটি স্কুলের মূল্যায়ণে এ তথ্য উঠে এসেছে। মিয়ানমারের উগ্রবাদী বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং সেনাবাহিনী মিলেই এ গণহত্যা চালাচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, গত সেপ্টেম্বর মাসে রাখাইনের সরকারি কর্মকর্তা কর্ণেল তেইন লিন সরকারি পরিকল্পনায় রোহিঙ্গা বসতির মধ্যে চীন-মিয়ানমার পাইপ লাইন তৈরি হচ্ছে বলে জানান। সেই পরিকল্পনার নাম দিয়ে ওই এলাকায় তাদের ভাষায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এ তালিকায় আছে আড়াই হাজার ঘরবাড়ি, ৬০০ দোকান এবং বহু মসজিদ ও ৩০টি বিদ্যালয়।

READ  দেশে বসেই পাওয়া যায় বিদেশি পিএইচডি সনদও!

এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যেও পৃথিবীর সব প্রান্তে মানুষ হাজার হাজার ডলার ব্যয় করে বড় বড় হোটেলে পার্টি দিচ্ছে, উদ্দাম নৃত্য করছে, নারী সম্ভোগ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের শেখরা লক্ষ লক্ষ দিরহাম ব্যয় করে বলিউডের নায়িকাদের পাওয়ার চেষ্টা করছে। কোথায় ধর্মের শিক্ষা? কোথায় মহামতি বুদ্ধের সেই অহিংস বাণী? কোথায় তার অনুসারীরা? কী করছে তারা?

এখন ধনী দেশগুলো, ধনী মুসলিম দেশগুলো বাংলাদেশ সরকারকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ সরবরাহ করতে পারে যাতে যেসব রোহিঙ্গা ইতিমধ্যে এখানে প্রবেশ করেছে তাদের সুষ্ঠুভাবে দেখাশোনা করতে পারে বাংলাদেশ সরকার। যেসব দেশে জনসংখ্যা কম অথচ ধনী, এসব দেশে উদ্বাস্তুদের নিয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে এবং নাগরিকত্ব প্রদান করতে পারে। স্রষ্টা কিছু কিছু দেশকে অজস্র সম্পদ দিয়েছেন তার অর্থ এই নয় যে, তার পুরোটাই শুধুমাত্র ঐসব দেশের জন্য। প্রতিবেশী দেশকে, বিপদে পড়া মানুষকে সহায়তা করতে হবে সেই সম্পদ দিয়ে। কিন্তু আমরা কী দেখছি? মধ্যপ্রাচ্যের ধনী মুসলিম দেশগুলো কী করছে? স্রষ্টার দেওয়া এই সম্পদের জবাব একদিন তাদের দিতে হবে।

দ্বিতীয় আর একটি পদক্ষেপ যা প্রভাবশালী এবং প্রতিবেশী সকল দেশকে সঙ্গে নিতে হবে, যাতে মিয়ানমার সরকারের ওপর প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করা যায়। তাদের সাথে সকল ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছেদ করতে হবে। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মিয়ানমার সফরে গেছেন। আশা ছিল কিছু একটা হবে। কিন্তু কী হলো? তার সাথে রোহিঙ্গাদের কথাই বলতে দেওয়া হয়নি। রোহিঙ্গাদের আটকে রাখা হয়েছিল, গুলি করে তাদের ভয় দেখানো হয়েছে যাতে তারা মুখ না খোলে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘকে অতি দ্রুত সেনা পাঠাতে হবে উপদ্রুত এলাকায়। যাদের বাড়িঘর পোড়ানো হয়েছে, মানুষ মারা হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে মিয়ানমার সরকারের কাছ থেকে। বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ ঘটনাটি শুধু মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার মনে করলে হবে না। দুর্ঘটনা একটির সাথে আর একটি চলে আসে। তাই বিশ্বসম্প্রদায়কে ঘুমের ভান করে থাকলে হবে না। বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করে সেখানে স্থায়ীভাবে জাতিসংঘের ক্যাম্প স্থাপন করতে হবে।

Loading...

Leave a Reply

Loading...