২৪ আগস্ট- দিনাজপুরে ইয়াসমিন ট্রাজেডি দিবস - Editortoday
BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
Friday , February 24 2017
Breaking News
Home / অন্যান্য / ২৪ আগস্ট- দিনাজপুরে ইয়াসমিন ট্রাজেডি দিবস

২৪ আগস্ট- দিনাজপুরে ইয়াসমিন ট্রাজেডি দিবস

download (4)

 

১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট দিনাজপুরে পুলিশী হেফাজতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছিলো কিশোরী ইয়াসমিন। প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে দিনাজপুরের মানুষ। উত্তাল হয়ে পড়ে দিনাজপুর। পুলিশি হেফাজতে তরুণী ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে আইন-শৃংখলা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয় সামু, সিরাজ ও কাদের নামে ৩ জন। আহত হয় আরও শতাধিক মানুষ।

পরবর্তীতে এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বিক্ষুদ্ধ জনতা দিনাজপুর কোতয়ালী থানা, ৩টি পুলিশ ফাঁড়ি, কাস্টমস গোডাউন, ৪টি পত্রিকা অফিসসহ বেশ কিছু স্থাপনা ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে জ্বালিয়ে দেয়। ২৪ আগস্ট এই দিনটি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে বিভিন্ন সংগঠন।

স্থানঃ দশ মাইল মোড়। সময়ঃ তখন ভোর ৪টা। দিনাজপুর শহর অভিমুখে ফিরতে অপেক্ষামান তরুণী ইয়াসমিন। ফজরের নামাজ পড়তে বের হওয়া স্থানীয় মুসল্লীরা নিরাপদে যেতে তাকে তুলে দিলেন একটি পুলিশ ভ্যানে। কিন্তু পুলিশ ভ্যানে উঠেই ইয়াসমিনকে বিদায় নিতে হয় পৃথিবী থেকে।

১০ মাইল থেকে দিনাজপুর শহরে আসার পথে ব্র্যাক স্কুলের সামনে ভোরের দিকে পুলিশ ভ্যানে উপস্থিত ৩ জন সদস্য এসআই মইনুল কনেস্টবল সাত্তার ও অমৃত ইয়াসমিনের শ্লীলতাহানী ঘটিয়ে চলন্ত পিক আপ ভ্যান থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিলে তার মৃত্যু ঘটে।

সকালে এলাকাবাসী রাস্তায় লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেয়। লাশ বেওয়ারিশ হিসাবে পুলিশ মর্গে নেয়। ২৫ আগস্ট তরুণীর পরিচয় এবং দশমাইলের ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে ঘটনার প্রতিবাদ ও পুলিশের বিচারের দাবিতে দিনাজপুরের সর্বস্তরের মানুষ প্রতিবাদ-বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

২৬ আগস্ট রাতে হাজার হাজার বিক্ষুদ্ধ জনতা কোতয়ালী থানা ঘেরাও করে। ইয়াসমিনের এই হৃদয়বিদারক মৃত্যুর ঘটনা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কোতয়ালী থানায় আক্রমন করে সাধারণ জনতা। শহরের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়ে। লুট হয় একে একে কাষ্টমস্ গোডাউনসহ শহরের বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। বিক্ষুব্ধ জনতা একে একে রাজপথে নেমে এসে সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলি এবং দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের শাস্তি দাবি করলে জনতার উপর পুলিশ নির্বিচারে গুলি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জারি করা হয় কার্ফ্যু। শহরে নামানো হয় তৎকালীন বিডিআর।

দিনাজপুর থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে ইয়াসমিন হত্যা মামলাটি স্থানান্তর করা হয় রংপুরে। রংপুর বিশেষ আদালতে ইয়াসমিন হত্যা মামলার স্বাক্ষ্য প্রমাণ শেষে এই ঘটনায় ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট বিজ্ঞ বিচারক পুলিশের এএসআই ময়নুল হোসেন, কনস্টেবল আব্দুস সাত্তার ও অমৃতলালকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

পরবর্তীতে দোষী ৩ পুলিশ সদস্যেকে ফাঁসি দেয়া হয়। উপমহাদেশের ইতিহাসে দোষী পুলিশদের ফাঁসিতে মৃত্যু কার্যকরের ঘটনা এটাই প্রথম।

Leave a Reply