BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
Monday , January 23 2017
Home / অন্যান্য / এক নজরে মাশরাফি বিন মর্তুজার জীবনী
Loading...

এক নজরে মাশরাফি বিন মর্তুজার জীবনী

পুরো জাতির কাছে তিনি এখন হিরো। তিনি নেতা। দেশের মানুষকে আন্দে ভাসানোর স্বপ্ন কারিগর। তিনি মাশরাফি বিন মর্তুজা।

তবে নিজেকে নায়ক মানতে নারাজ মাশরাফি। বরং তাঁর কণ্ঠে বিনম্র উচ্চারণ, ‌’আমরা নায়ক নই। এন্টারটেইনার মাত্র। নায়ক মুক্তিযোদ্ধারা।’

জন্ম 

৫ অক্টোবর ১৯৮৩, নড়াইল জেলায় নানাবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন ১৬ কোটি মানুষের প্রিয় মাশরাফি।

পারিবারিক জীবন

নানাবাড়ীতেই বড় হয়েছেন মাশরাফি। কারণ তার নানীর ধারণা-বিশ্বাস ছিল মাশরাফির মা সেসময় বাচ্চা-লালন পালনের উপযুক্ত না। আসলে বাবা-মার একমাত্র মেয়ে হওয়ায় সেসময় মাশরাফির মার যেন কোনো কষ্ট না হয়, সেজন্য মাশরাফিকে নিজের কাছেই রেখেছিলেন তার নানী।

মাশরাফির বাবার বাসা আর নানার বাসার দূরত্ব পাঁচ মিনিটেরও ছিল না। তাই শিশু মাশরাফির নানির কাছে থাকতে বিশেষ অসুবিধা হয়নি।

মাশরাফির যখন ছয় মাস বয়স তখন তার পিতাকে চাকরি উপলক্ষে নড়াইল ছেড়ে সস্ত্রীক ঢাকায় এসে বসবাস করতে হয়। তিনি ছিলেন বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানির কর্মাধ্যক্ষ। মাশরাফি থেকে যান নানির কাছে। ছেলেকে দেখতে মা পনেরো দিন পর পর নড়াইল আসতেন। এভাবে দুবছর টানাপোড়েনের পর মাশরাফির বাবা চাকরি ছেড়ে নড়াইল এসে স্থায়ী হোন।

মাশরাফির বাবার নাম গোলাম মর্তুজা, তিনি বর্তমানে ব্যবসায়ী। আর মায়ের নাম হামিদা মর্তুজা, তিনি গৃহিনী। মাশরাফির ডাক নাম কৌশিক। এ নামেই পরিবারে পরিচিত তিনি।

প্রেম-ভালোবাসা এবং বিয়ে:

নড়াইলের ছোট্ট শহরের পাশেই ছোটবেলা কেটেছে মাশরাফি বিন মর্তুজার। একই গ্রামের মেয়ে সুমনা হক সুমির সঙ্গে তখন থেকেই প্রেমের সম্পর্ক মাশরাফির। এলাকার কারও অজানা ছিল না মাশরাফি ও সুমির প্রেমকাহিনী । সাদা মনের মাশরাফির প্রতিভার বিকাশ হতে সময় লাগেনি মোটেও। বাংলাদেশ দলে সুযোগ পেয়েই হলেন বড় তারকা। গ্রামের মানুষের মধ্যে তখন সন্দেহ। সুমির বাবাকে প্রতিবেশীরা বোঝাতে চাইলেন। তার মেয়েকে বিয়ে করবেন না মাশরাফি। ও এখন বড় তারকা। একদিন দেখিস অন্য কাউকে বিয়ে করে নিয়ে হাজির হবে। প্রতিবেশীদের এমন কথায় মাশরাফির বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে হাজির হন সুমির বাবা। রাজি হয়ে যান দু’জনেই। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে বিয়ে হয় তাদের। বাবা রাজি না হলে আরও কিছুদিন দেরি করে বিয়েটা করতেন মাশরাফি। মেয়ে হুমাইরাকে নিয়ে সুখের সংসার তাদের।

আরও পড়ুন   অতিরিক্ত লবণ খেলেই বিপদ!

খেলোয়াড় জীবন

বয়স তখন মাত্র ১৮ বছর। ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজ। ডাক পেলেন কৌশিক।একই বছর ২৩শে নভেম্বর ওয়ানডে ক্রিকেটে মাশরাফির অভিষেক হয় ফাহিম মুনতাসির ও তুষার ইমরান এর সাথে।

তবে অনুর্ধ ১৯ দলের হয় খেলার সময় কৌশিকের গতিময় ও আক্রমনাত্বক বোলিংয়ের জন্য নজর কাড়েন তৎকালীন অস্থায়ী কোচ ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক ফাস্ট বোলার এন্ডি রবার্টসের।

২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় মাশরাফির।

২০০৬ সালে নাইরোবিতে কেনিয়ার বিরুদ্ধে ২৬ রানে ৬ উইকেট মাশরাফির সেরা সাফল্য।

টেস্ট ক্রিকেটে মাশরাফির অভিষেক ৮ নভেম্বর, ২০০১। ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে। এই ম্যাচে ৮ ওভার ২ বলে ২৬ রান দিয়ে তুলে নেন ২ উইকেট।

কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জয়ে মাশরাফি দশ ওভার বল করে ৩৩ রান দেন। ঐ ম্যাচে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মারকুটে ব্যাটসম্যান এডাম গিলক্রিস্টকে শূণ্য রানে আউট করেন।

২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক উইকেট শিকারীর খেতাব অর্জন করেন মাশরাফি। সেই বছর তিনি অর্জন করেন ৪৯টি উইকেট।

২০০৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ৩৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ভারতের বিপক্ষে স্মরনীয় জয়ে মাশরাফি মূখ্য ভূমিকা রাখেন। রেখেছেন।
বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মাশরাফিই এক ওভারে সর্বোচ্চ ২৬ রান সংগ্রহ করেন ভারতের বিপক্ষে নিজের দ্বিতীয় একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।
বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে ইনজুরিতে পরেন।

২০১০ সালে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার সময় ইনজুরিতে পড়েন। এই ইনজুরির কারনে তিনি ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলতে পারেনি।
ঘরোয়া ক্রিকেটের বাইরে ভারতের আইপিএল-এ কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলেছেন।

২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ থেকে অধিনায়কের দায়িত্ব কাধেঁ ওঠে ম্যাশের। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, প্রথম ম্যাচেই মারাত্বক ইঞ্জুরীতে পড়েন তিনি। কিন্তু দেড় বছর পর আবার স্বরুপে ফিরে আসার ইঙ্গিত নিয়ে ইউরোপ সফরে যান দলের সাথে। ইংলান্ডকে প্রথম বারের মত বাংলাদেশ পরাজিত করে মাশরাফির অধিনায়কত্বে। কিন্তু এরপর আবার ইঞ্জুরীতে, যার কারনে খেলা হয়নি ঘরের মাঠের ২০১১ বিশ্বকাপেও!

আরও পড়ুন   রোহিঙ্গা হত্যা বন্ধ না করলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা

টাকার জন্য খেলেননা মাশরাফি বরং দেশের জন্যই মরিয়া হয়ে খেলেন। এমনও দিন গেছে যে ব্যাথার ইনজেকশন নিয়েই মাঠে নেমে গেছেন শিশুসুলভ মাশরাফি।

একদিন মাশরাফি বলেছিলেন ” জীবনে যে টাকা আমি আয় করেছি সে টাকা দিয়ে আমার ছেলেমেয়েরাও পর্যন্ত বসে খেতে পারবে, আমি দেশের জন্য ক্রিকেট খেলি, আমি আরো অনেক দিন ক্রিকেট খেলতে চাই দেশের স্বার্থে “

সৌরভ গাঙ্গুলী বলেছিলেন “ইশ! আমাদের যদি একটি মাশরাফি থাকতো।

তার দুপায়ের উপর দিয়ে গেছে কয়েকবার অপারেশন টেবিলের ছুরি। এরপরও তাকে কেউ রুখতে পারে নি। অপারেশনের পরও খেলে যাচ্ছেন বাংলাদেশের হয়ে। ইনজুরিতে   পড়ে অনেক বড় বড় খেলোয়ার অবসর নিয়েছে। ইনজুরিতে পড়ার পর ব্রেটলি, শেন ভন, এন্ড্রু ফ্লিনটপের মত প্লেয়াররা ক্রিকেটে ফিরতে পারেন নি। কিন্তু মাশরাফি এরকম ইঞ্জুরি নিয়েও খেলে যাচ্ছেন। কারন তিনি মনে করেন বাংলাদেশের জন্য তার এই জীবন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধারা যেমন জীবন দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছেন ঠিক তেমনি তার জীবন দিয়ে খেলে বাংলাদেশকে জয় এনে দিতে চান।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারী এখনও মাশরাফি বিন মর্তুজা। এর আগ পর্যন্ত ২০০৭ ও ২০১১ বিশ্বকাপে ১৩টি উইকেট নিয়ে সবার শীর্ষে ছিলেন রাজ্জাক। আফগানিস্তানের জাভেদ আহমাদি ও আসগর স্তানিকজাঈকে আউট করে রাজ্জাককে স্পর্শ করেন মাশরাফি।

মাশরাফি একজন মারকুটে ব্যাটসম্যানও। ভারতের বিপক্ষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় একদিনের আন্তর্জাতিক খেলায় তিনি পরপর চার বলে ছক্কা পেটান। সেই ওভার থেকে তিনি ২৬ রান সংগ্রহ করেন যা কোন বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানের জন্য এক ওভারে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।

মাশরাফির পাঁচ মাসের ছেলেটা অনেক দিন ধরেই ভীষণ অসুস্থ। টাইফয়েডের সঙ্গে মূত্রাশয়ের সংক্রমণে এ মুহূর্তে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি তার ছেলে সাহেল মুর্তজা।

মাশরাফির মা হামিদা মুর্তজা জানালেন, ‘২১টা ইনজেকশন দিতে হবে। কেবল ছয়টা দেওয়া হয়েছে, এখনো ১৫টি বাকি। মাশরাফির অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বাচ্চাটা। বোর্ড বসিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ইনজেকশনের সঙ্গে অন্যান্য চিকিৎসাও চলছে।’

আরও পড়ুন   রাতে দেরি করে খেলে কী ক্ষতি হয়…

সন্তানের এ সংবাদ শুনে, তাঁকে ভেঙে পড়লে চলবে কী করে? বাংলাদেশ দলের বিশাল দায়িত্ব তাঁর কাঁধে, তাই ভেঙে পড়েননি তিনি। সবার আগে যে দেশ! সেই দেশের প্রেরণায় ঝাঁপিয়ে পড়েছেন প্রথম ম্যাচের আগুন-পরীক্ষায়। আর তাতে কী দারুণভাবেই না জ্বলে উঠলেন! মাঠে মাশরাফি জ্বলে উঠলে সেদিন প্রতিপক্ষের কী হয়, নিশ্চয় তা সবার জানা।

ব্যথা-যন্ত্রণা তো তাঁর নিত্যসঙ্গী। শুধু মনে নয়, ব্যথা ছিল শরীরেও। চোটের সঙ্গে লড়তে লড়তে ক্লান্ত হননি, ভেঙে পড়েননি; সংশপ্তকের মতো উঠে দাঁড়িয়েছেন বারবার। নতুন উদ্যমে ফিরেছেন মাঠে। দেখিয়েছেন সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স। হাঁটুর চোটের কারণে নি-ক্যাপ পরে মাঠে নামতে হয়। নামেন। কিন্তু এতকিছুর পরও নিজেকে শতভাগ উজাড় করে দিতে এতটুকু কার্পণ্য করেন না তিনি। কারণ তিনি অপরাজেয়। তিনিই মাশরাফি বিন মুর্তূজা।

Loading...

Leave a Reply