BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
Sunday , January 22 2017
Home / অন্যান্য / পৃথিবীর প্রথম বিজ্ঞানী নবি হজরত ইদ্রিস [আ.]! জানুন তাঁর কিছু আবিষ্কার সম্পর্কে!!
Loading...

পৃথিবীর প্রথম বিজ্ঞানী নবি হজরত ইদ্রিস [আ.]! জানুন তাঁর কিছু আবিষ্কার সম্পর্কে!!

হজরত ইদরিস [আ.] ছিলেন একজন বিখ্যাত নবি। তার নামে বহু উপকথা তাফসিরের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে। যে কারণে জনসাধারণ্যে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। সেসব উপকথা পরবর্তীতে অধিকাংশই রূপকথায় রূপ নিয়েছে, কিছু অতিরঞ্জিত হয়ে গোনাহের পর্যায়ে চলে গেছে।

হজরত ইদরিস [আ.] ছিলেন একজন বিখ্যাত নবি। তার নামে বহু উপকথা তাফসিরের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে। যে কারণে জনসাধারণ্যে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। সেসব উপকথা পরবর্তীতে অধিকাংশই রূপকথায় রূপ নিয়েছে, কিছু অতিরঞ্জিত হয়ে গোনাহের পর্যায়ে চলে গেছে। অথচ নবি ইদরিস [আ.] যে পৃথিবীতে বসবাসের নিমিত্তে অনেক জ্ঞান-বিজ্ঞানের সূচনা করেছিলেন, সে ব্যাপারে আমরা অনেকেই অজ্ঞ।

হজরত ইদরিস [আ.] হজরত নুহ [আ.]-এর পূর্বের নবি ছিলেন,না পরের নবি ছিলেন এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অনেক সাহাবির মতে তিনি নুহ [আ.]-এর পরের নবি ছিলেন। আবার অনেক সাহাবি ও তাফসিরকার তাকে নুহ [আ.]-এর পরবর্তী নবি বলে মত দিয়েছেন। অনেক ইতিহাসবিদ এবং তাফসিরকার তাকে ইসলামের তৃতীয় নবি এবং হজরত আদম [আ.]-এর তৃতীয় প্রজন্ম বলে মত প্রকাশ করেছেন। পৃথিবীর প্রাথমিক পর্যায়ের মানুষ হিসেবে তিনিই ছিলেন ইতিহাসের প্রথম শিক্ষিত ব্যক্তি। কেননা আল্লাহ তাআলা তাকেই প্রথম অক্ষরজ্ঞান শিক্ষা দেন।

 

তাফসিরে কুরতুবি, ইবনে কাসির ও মাআরেফুল কুরআন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে,হজরত ইদরিস [আ.] প্রথম মানব,যাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও গণনাপদ্ধতি শিক্ষা দেয়া হয়েছিলো। তিনি গ্রহ-উপগ্রহের চলাফেরা বা গতিবিধি লক্ষ্য ও সময় নির্ধারণ করার জন্য বেশ কিছু মান-মন্দির নির্মাণ করেছিলেন বলেও জানা যায়। তিনিই সর্বপ্রথম মানব, যিনি কলমের সাহায্যে লিখনপদ্ধতি ও বস্ত্র সেলাই শিল্পের সূচনা করেন। তার আগে মানুষ সাধারণতঃ পোশাক হিসাবে জীবজন্তুর চামড়া ব্যবহার করতো। ওজন ও পরিমাপের পদ্ধতি তিনিই সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন। তার আমলেই সর্বপ্রথম নগরসভ্যতা গড়ে ওঠে। তিনি তার ব্যক্তিগত সংস্পর্শে রেখে বেশ কিছুসংখ্যক লোককে সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলেন। তারাই বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এক একটি শহর নির্মাণ করে। এভাবে তিনি বেঁচে থাকতেই একশো আটাশিটি শহর বা সভ্য জনপদ গড়ে উঠেছিলো বলে জানা যায়। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও চিন্তাশীল ব্যক্তি ছিলেন। লোহা দ্বারা অস্ত্র-শস্ত্র তৈরির পদ্ধতি আবিষ্কার ও তার ব্যবহার তার আমল থেকেই শুরু হয়। তিনি নিজস্ব পদ্ধতিতে অস্ত্র নির্মাণ করে কাবিল গোত্রের বিরুদ্ধে জেহাদ করেন। সর্বপ্রথম এসব নির্মাণগত উৎকর্ষ সাধনের কারণে তাকে ইতিহাসের প্রথম বিজ্ঞানী বলা হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন:  কলেজ ক্যাম্পাসে ছেঁড়া কাপড় নিষিদ্ধ

ইদরিস [আ.]-কে নিয়ে আমাদের সমাজে অনেক ভুল উপকথার মধ্যে একটি হলো- আল্লাহর নবি ইদরিস [আ.] ছিলেন মালাকুল মাউতের (আজরাইল) বন্ধু। ইদরিস [আ.] তার কাছে জান্নাত-জাহান্নাম দেখানোর আবদার জানালেন। তিনি তাকে ঊর্ধ্বাকাশে নিয়ে জাহান্নাম দেখালেন। জাহান্নাম দেখে ইদরিস আ. এতো বেশি ভয় পেলেন যে, বেহুশ হওয়ার উপক্রম হলেন। তখন মালাকুল মাউত আপন ডানা দিয়ে তাকে আগলে নিলেন। তারপর তাকে জান্নাত দেখাতে নিয়ে গেলেন। জান্নাত দেখা শেষ হলে মালাকুল মাউত বললেন,দেখা হয়েছে? এবার চলুন। তিনি বললেন,কোথায় যাবো? বললেন,যেখান থেকে এসেছেন। তখন ইদরিস আ. বললেন,না,জান্নাতে প্রবেশ যখন করেছি,এখান থেকে আর বের হবো না। তখন মালাকুল মাউতকে গায়েব থেকে বলা হলো,তুমি কি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাওনি? জান্নাতে একবার যে প্রবেশ করে সে আর বের হয় না বা তাকে আর বের করা হয় না। এরপর তিনি সেখানেই বসবাস করতে লাগলেন।

আরও পড়ুন:  ১০ টি ধংশাত্তক মিসাইল যা কিনা যে কোনো দেশকে ছাই করে দিতে পারে (দেখুন ভিডিও)

এ বর্ণনাটি ভিত্তিহীন। এই বর্ণনার সনদে ইবরাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে খালেদ আলমিসসিসি রয়েছে। ইমাম জাহাবি রহ. এ বর্ণনাকারী সম্পর্কে বলেন, এ ব্যক্তি একজন চরম মিথ্যাবাদী। হাকিম রহ. বলেছেন,তার বর্ণনাগুলো মওজু ও বানোয়াট। [মিজানুল ইতিদাল,তরজমা নং ১২৪;লিসানুল মিজান,তরজমা নং ১৭৮]

আরও পড়ুন   লন্ডন প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি , মালামাল লুট

ইদরিস [আ.]-এর বর্ণনা পবিত্র কুরআনে দুই স্থানে এসেছে-

وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِدْرِيْسَ إِنَّهُ كَانَ صِدِّيقًا نَّبِيًّا، وَرَفَعْنَاهُ مَكَاناً عَلِيّاً-

আপনি এই কিতাবে ইদরিসের কথা আলোচনা করুন। নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন সত্যবাদী ও নবি। আমি তাকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছিলাম। [সুরা মারিয়াম, আয়াত ৫৬-৫৭]

وَإِسْمَاعِيلَ وَإِدْرِيسَ وَذَا الْكِفْلِ كُلٌّ مِّنَ الصَّابِرِينَ

এবং ইসমাইল, ইদরিস ও যুলকিফলের কথা স্মরণ করুন, তারা প্রত্যেকেই ছিলেন সবরকারী। [সুরা আম্বিয়া, আয়াত ৮৫]

Loading...

Leave a Reply