সাঁওতাল পল্লিতে হামলার দুই মাস: জমির দাবিতে অনড় ভুক্তভোগীরা – Editortoday
BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
Monday , May 1 2017
Breaking News
Home / অন্যান্য / সাঁওতাল পল্লিতে হামলার দুই মাস: জমির দাবিতে অনড় ভুক্তভোগীরা

সাঁওতাল পল্লিতে হামলার দুই মাস: জমির দাবিতে অনড় ভুক্তভোগীরা

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জে রংপুর চিনিকলের ইক্ষু খামারের জমি থেকে উচ্ছেদ করতে সাঁওতালদের ওপর হামলার দুই মাস পূর্ণ হলো আজ ৫ জানুয়ারি শুক্রবার। তবে জমি উদ্ধার ও হামলাকারীদের শাস্তির দাবির বিষয়ে এখনও অনড় ভুক্তভোগীরা সাঁওতালরা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা জীবন দিবেন তবুও বাপ-দাদার জমির অধিকার ছাড়বেন না। এ ঘটনায় সাঁওতালদের পক্ষে আদালতে দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। তবে দুই মাসেও ধরা পড়েনি মূল অভিযুক্তরা। এদিকে এখনও শেষ হয়নি উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্তও। তবে ইতোমধ্যে তদন্ত শেষ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

ওই ঘটনার পর মাদারপুর গ্রামের গির্জার সামনে আশ্রয় নেওয়া এক সাঁওতাল আমেনা হেমরন বলেন, ‘স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের নিয়ে খামারের জমিতে বসবাস করছিলাম। কিন্তু  সবকিছু পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন খোলা আকাশের নিচে না খেয়ে দিনাতিপাত করছি।’

টেডু টুডু নামের আরেক সাঁওতাল বলেন, ‘সহায়-সম্বল আগুনে পুড়ে যাওয়ায় এখন আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। কিন্তু হামলাকারীদের এখনও গ্রেফতার করা হয়নি।’

শরনি কিসকো নামের অপর সাঁওতাল বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে যে ত্রাণ পাচ্ছি তা দিয়েই মানবেতর জীবনযাপন করছি। তাই দ্রুত আমাদের জমি ফেরতের ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।’

পলুস মাস্টার বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই। একই সঙ্গে বাপ-দাদার জমিও ফেরত চাই।’

.খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেওয়া সাঁওতালরা

উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে সাঁওতাল বাঙালিদের কাছ থেকে ১৮৪২.৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করে রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ। ওই জমিতে প্রথমে আখ চাষ করা হলেও পরবর্তীতে জমি লিজ দেওয়া হয়। পরে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে জমি ফেরত পেতে আন্দোলনে নামে সাঁওতালরা। গত বছর ১ জুলাই সাঁওতালা ওই জমিতে ঘর নির্মাণ করে ধান, পাট, ডাল ও সরিষা চাষ করে।  গত ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের আখ কাটাকে কেন্দ্র করে সাঁওতালের সঙ্গে চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষ বাঁধে। পরে তাদের উচ্ছেদ করতে ঘরে আগুন দেওয়া হয় এবং লুটপাট করা হয়। ঘটনার পর মাদারপুর ও জয়পুরপাড়ার সাঁওতাল পল্লিতে আশ্রয় নেয় ক্ষতিগ্রস্ত চার শতাধিক সাঁওতাল পরিবার। সেখানে খোলা আকাশের নিচে খড়ের ঘর, ছাপড়া, ত্রিপল (তাবু), কলা পাতার ঘরে বসবাস শুরু করেন তারা।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা করে। আর গত ১৬ নভেম্বর গভীর রাতে সাঁওতালদের পক্ষে স্বপন মরমুর বাদী একটি মামলা করেন। এর ২০ দিন পর ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতালদের পক্ষে থোমাস হেমব্রন বাদী হয়ে সংসদ সদস্য, ইউএনও, ইউপি চেয়ারম্যান, চিনিকলের এমডিসহ অজ্ঞাতনামা ৫শ’/৬শ’ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার বলেন, ‘হামলার ঘটনায় উভয় পক্ষের দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে। এমনকি এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তও চলছে।’

source:bangla tribune

Leave a Reply