লিটন হত্যা নিয়ে যা ভাবেন পৌর মেয়র – Editortoday
BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
Monday , May 1 2017
Breaking News
Home / অন্যান্য / লিটন হত্যা নিয়ে যা ভাবেন পৌর মেয়র

লিটন হত্যা নিয়ে যা ভাবেন পৌর মেয়র

গাইবান্ধা-১ আসনের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যায় জামায়াত-শিবির ছাড়াও স্ত্রীসহ তার কয়েকজন স্বজনের দিকে আঙ্গুল তুলেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আবদুল্লাহ আল মামুন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এমপি লিটনের স্বজনরা।

 

এমপি লিটনের হত্যা তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে পুলিশও কোনও মন্তব্য করতে রাজী হয়নি। গাইবান্ধা পুলিশের এএসপি (সার্কেল) আবদুল্লাহ আল ফারুক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আপাতত তদন্তের কোনও অগ্রগতি নেই। সময় হলে আমরা এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানাবো।’

এমপি লিটন হত্যার কারণ জানতে চাইলে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আবদুল্লাহ আল মামুন  বলেন, ‘তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। শুনেছি, মৃত্যুর দু’দিন আগেও এমপি লিটন তার স্ত্রী স্মৃতিকে মারধর করেছেন। ১৯ কোটি টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেটাকা কিসের সেটা অবশ্য জানি না। আরও একটু গভীরে গেলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।’

পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণেই কি তারা এমপিকে হত্যা করতে পারেন, এমন প্রশ্নের জবাবে পৌর মেয়র মামুন বলেন, ‘খুরশিদ জাহান স্মৃতির ক্ষমতা ও অর্থলোভ অনেক বেশি। এক্ষেত্রে এমপি লিটন না থাকলেই তার সুবিধা। কারণ লিটন যদি না থাকেন, তাহলে ওই আসনের সংসদ সদস্য পদটা শুন্য হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে মনোনয়নের জন্য অগ্রাধিকার পাবেন তার স্ত্রী। এখন অর্থের লালসায় হোক, আর এমপি পদের লালসায় হোক এমনটা ঘটতে পারে।’

মামুন আরও বলেন, ‘হত্যা মামলায় স্মৃতি ম্যাডাম বাদী হননি। বাদী হয়েছেন এমপি লিটনের বোন। বোন কেন বাদী হলেন, সেটা প্রশ্নবিদ্ধ।’

তিনি বলেন, ‘স্মৃতির কারণে যদি এমপি লিটন খুন হয়ে থাকেন, তাহলে এখানে জড়িত চারজন- স্মৃতি ম্যাডাম, তার ভাই আবু নাসের মোহাম্মদ মিরান ও সৈয়দ বেদারুল আহসান বেতার এবং স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা সামিউল ইসলাম সামু।’

আর তা নাহলে জামায়াত-শিবির এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এই এলাকার সাবেক এমপি জামায়াত নেতা আব্দুল আজিজ দীর্ঘদিন থেকে পলাতক। আমরা যতটুকু জানি তিনি বর্তমানে পাকিস্তানে রয়েছেন। রাজনৈতিক স্বার্থে ওই লাইনেও এ হত্যাকাণ্ড হতে পারে।’

এমপি পদে মনোনয়নের জন্য তার নিজের কোনও ইচ্ছা আছে কিনা জানতে চাইলে মামুন বলেন, ‘না, আমি ক্ষুদ্র মানুষ। স্বীকার করি, আমি একজন জনপ্রিয় নেতা। আমাকে সন্দেহের বাইরে রাখবেন সেটাও বলছি না। পাপ করলে পাপের প্রায়শ্চিত্ত ভোগ করতে হবে। সত্য কখনও চাপা থাকে না। সুন্দরগঞ্জে বেশিরভাগ খুনই হয়েছে জামায়াতের হাতে। এগুলোর যদি বিচার হতো তাহলে এমন ঘটনা ঘটতো না ।’

এমপি লিটনের হত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এমপি লিটনের পরিবারের মধ্যে ঝগড়াবিবাদ বা টাকাপয়সা নিয়ে কোনও দ্বন্দ্বের কথা আমরা শুনিনি।’ পৌর মেয়রের বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা আমার জানা নাই।’

গোলাম মোস্তফা আরও বলেন, ‘প্রশিক্ষিত খুনিরাই এমপি লিটনকে হত্যা করেছে। একজন এমপির বাসভবনে গিয়ে তাকে হত্যা করা যেইসেই  কিলারের কাজ নয়। তবে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি ও তাদেরই সৃষ্ট জঙ্গিরাই একাজটা করতে পারে বলে এ মুহূর্তে আমি মনে করি।’

এমপি লিটনের শ্যালক ও সুন্দরগঞ্জের সোনা রায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আবু নাসের মোহাম্মদ মিরান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এমপি লিটন হত্যার তদন্ত কাজে পুলিশকে যে ধরনের সহযোগিতা করা দরকার, সেটা করে যাচ্ছি। আমরা আশাবাদী খুব শিগগিরই একটা ফলাফল পাবো।’

তিনি বলেন, ‘এমপিসহ আমাদের অস্ত্রগুলো যদি জমা না নিতো, তাহলে লিটনকে আমরা হারাতাম না।’

লিটন হত্যায় পারিবারিক দ্বন্দ্ব, অর্থ ও তার স্ত্রী স্মৃতির প্রতি সুন্দরগঞ্জ পৌর মেয়র আবদুল্লাহ আল মামুনের সন্দেহ প্রসঙ্গে মিরান বলেন,‘ পারিবারিক কোনও দ্বন্দ্ব-কোন্দল ছিল না। আমাদের প্রতি এমপির যথেষ্ট স্নেহ-ভালোবাসা ছিল। আমার বাবা মারা গেছেন অনেক আগে। আমার কাছে ওনার স্থান ছিল বাবার পরেই।’

মিরান আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মধ্যে ওই গ্রুপটাই (মেয়র গ্রুপ) এমপি লিটন ও আমাদের বিরোধিতা করে আসছিল।

  • বাংলা ট্রিবিউন

Leave a Reply