BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
Monday , January 23 2017
Home / অন্যান্য / “এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না”
Loading...

“এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না”

উপ-সম্পাদকীয়ঃ

“এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না,

এই জল্লাদের উল্লাসমঞ্চ আমার দেশ না,

এই বিস্তীর্ণ শ্মশান আমার দেশ না,

এই রক্তস্মাত কসাইখানা আমার দেশ না,”

নবারুণ ভট্টাচার্যের ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’ কবিতাটি যেন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নিষ্ঠুরতারই প্রতিচ্ছবি।

বাংলাদেশে প্রতিদিন অগনিত মানুষ অনাকাঙ্খিতভাবে কিংবা অস্বাভাবিকভাবে মরে যায়। মানুষ মরলে লাশ হয়। চারিদিকে কেবলই লাশের গন্ধ। মরছে মানুষ, হয়ে যাচ্ছে লাশ।

প্রতিদিন কত মানুষ অনাকাঙ্খিতভাবে কিংবা অস্বাভাবিকভাবে মরে যায় তাঁর কোন সুনির্দিষ্ট হিসেব নেই। মরছে আর মরছে। মৃত্যু সংবাদ শুনতে শুনতে আমাদের হৃদয়ে আমরা পাথর বসিয়েছি। মৃত্যু দেখলে কিংবা একটা লাশ দেখলে আমাদের তেমন একটা ভাবান্তর হয়না।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই চায়ের কাপ হাতে খবরের কাগজ হাতে নিয়ে লাশের ছবি দেখে আমাদের বুক আঁতকে উঠেনা। কেননা লাশের ছবি দেখতে দেখতে আমরা অভ্যস্ত।

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে এবং মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সেন্টার। (Human Rights Support Center) এর রিপোর্ট অনুযায়ী একটি পরিসংখ্যান দেখা যাক।

২০১৬ সালে ১৬৭ টি বিচার “বহির্ভূত হত্যাকান্ডে” আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক নিহত হয়েছে ২১৭ জন এবং কারা হেফাজতে মারা যান ২৭ জন ।

পারিবারিক কলহের নির্যাতনে ২৮৯ নারী নিহত হয়েছেন,ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩৯ জনকে,যৌতুকের জন্য নির্যাতনে নিহত হয়েছেন ১৫০ জন, অপহরণের পর হত্যা এবং লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ৭৩ জনের।

এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ৩৪ জনকে অন্তর্ধান(গুম) করা হয়েছে এবং গুম করার পর ০৯ জনকে বিচার বহির্ভূত হত্যা করা হয়েছে।

“সহিংস হামলার” ঘটনায় নিহত হয়েছে ৬৪৭ জন, “গণপিটুনির” ১১১ টি ঘটনায় নিহত হয়েছে ১০৪ জন, “রাজনৈতিক সহিংসতার” ঘটনায় নিহত হয়েছে ১০১ জন।

গত ২২ মার্চ নির্বাচন শুরু হয় এবং ছয়টি ধাপে এই নির্বাচন ৪ জুন শেষ হয়। প্রথম-ছয় ধাপের নির্বাচনী সহিংসতায় মোট ৮৬ জন নিহত হন।

আরও পড়ুন   চুলকে সিল্কি করতে পেঁপের হেয়ার প্যাক

দেশের জাতীয় সংবাদপত্রগুলোতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরেকটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, “ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)” কর্তৃক শারীরিক নির্যাতন ও গুলি করে ২৮ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করা হয়েছে।

২০১৬ সালে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রান হারিয়েছেন ছয় হাজার পঞ্চান্ন জন মানুষ।

অনেক ‘মৃত্যু’ মন্ত্রী মহোদয়গণের মুখের কথায় অনাকাঙ্খিত কিংবা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেই ধরে নেয়া হয়। কিন্তু রাষ্ট্র আমাদের  জীবনের কতটুকু নিরাপত্তা দিচ্ছে তা প্রশ্ন রাখা যায়।

অন্যান্য বছরগুলোর মত ২০১৬ সালেও আইন শৃংখলা বাহিনী কর্তৃক বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, প্রশাসনের হেফাজতে মৃত্যু, আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক গুম এবং হত্যার অভিযোগ, গণপিটুনীতে মানুষ হত্যা অব্যাহত।

রাজনৈতিক সহিংসতা, সীমান্তে বিএসএফ্ ও বিজিপি কর্তৃক নিরীহ বাংলাদেশী হত্যা , নারীর প্রতি সহিংসতা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে হামলা, প্রকাশ্য দিবালোকে বিজ্ঞান মনস্ক ও মুক্তমনা ব্লগার এবং প্রকাশক হত্যা, বিদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশে বিরাজমান মানবাধিকার পরিস্থিতি কতটুকু সাম্যাবস্থায় রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়।

আর লাশের মিছিলে নতুন কারো নাম যোগ হোক তা আমরা চাইনা। শুধু চাই স্বাভাবিক কাঙ্খিত মৃত্যু। চাই রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত প্রতিটি মানুষের জন্য নিরাপত্তা।

রকিবুল সুলভ/৬,০১,২০১৭

Loading...

Leave a Reply