রসরাজের ফেসবুকে এখন কোনো পোস্ট ও ছবি নেই – Editortoday
BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
Monday , May 1 2017
Breaking News
Home / অন্যান্য / রসরাজের ফেসবুকে এখন কোনো পোস্ট ও ছবি নেই

রসরাজের ফেসবুকে এখন কোনো পোস্ট ও ছবি নেই

সম্প্রতি দামি একটি মোবাইল ফোনসেট কেনেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের এক নেতা। ভেবেছিলেন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে নিয়মিতই এতে ঢুঁ মারবেন।

কিন্তু নাসিরনগরের তাণ্ডবের পর তিনি এখন ফেসবুক নামটা মুখে আনতেই নারাজ। কেননা পাছে কোনো ষড়যন্ত্রের মধ্যে পড়ে যান কি না সেই ভয় কাজ করছে তাঁর মধ্যে। শুধু আখাউড়ার ওই ব্যক্তিই নন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকেই ফেসবুক ব্যবহার নিয়ে অনেক বেশি সতর্ক।

এদিকে গতকাল শনিবার বিকেলে ধর্ম অবমাননাকর ছবি পোস্ট করার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত রসরাজ দাসের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুঁজে দেখা গেছে, সেটি এখানো সচল আছে। তবে এতে তাঁর প্রোফাইল পিকচার ছাড়া কোনো পোস্ট নেই।

রসরাজের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ফেসবুকে ছবি না থাকার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়ে চিঠি লেখা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো উত্তর আসেনি।

এসআই মিজানুর রহমান আরো বলেন, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রতিবেদনে ছবি পোস্টের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু লেখা নেই। এখন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, রসরাজ গ্রেপ্তার হওয়ার পরও এতে একাধিক ছবি দেখা যায়। এসব ছবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের একটি ও নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আরেকটি ছবি ছিল। অভিযোগ ওঠার পরপরই ধর্ম অবমাননার ছবি সরিয়ে দেওয়া হয় এবং ক্ষমা চেয়ে পোস্ট দেওয়া হয়। পরে অন্য ছবির নিচেই ধর্মীয় উসকানিমূলক অসংখ্য কমেন্টস করতে থাকে অনেকে। এখন কোনো ধরনের কমেন্টসও নেই। ফটো লেখার পাশে ‘নাথিং টু শো’ লেখা রয়েছে। তাঁর বন্ধু তালিকায় রয়েছে ৩৬০ জন। কিভাবে কিংবা কী কারণে রসরাজের ফেসবুকের ছবি নেই সে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গত ২৮ অক্টোবর নাসিরনগরের হরিপুর গ্রামের রসরাজ দাস নামে এক যুবকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ধর্ম অবমাননাকর একটি ছবি পোস্ট করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া রসরাজ পুলিশের কাছে দাবি করেন, তিনি ওই স্ট্যাটাস দেননি এবং ছবিও পোস্ট করেননি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদস্য (মেম্বার) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রচারের জন্য তিনি এ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট চালু করিয়েছিলেন। একাধিক ব্যক্তি তাঁর অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড জানতেন।   পিবিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী রসরাজের মোবাইল ফোন থেকে ছবিটি পোস্ট করা হয়নি। অন্যদিকে গ্রেপ্তার হওয়া আল-আমিন সাইবার পয়েন্ট ও স্টুডিও মালিক জাহাঙ্গীর আলমের কম্পিউটারে ছবি এডিট হয় বলে পিবিআই প্রতিবেদন দেয়। তবে কার মাধ্যমে কিংবা কোন ডিভাইস থেকে ছবি পোস্ট হয়েছে সে বিষয়টি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নাসিরনগর থানার ওসি মো. আবু জাফর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রসরাজের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাটি তদন্ত করছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। যে কারণে ফেসবুক অ্যাকাউন্টের বিষয়টি তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন। ’

Leave a Reply