BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
Monday , January 23 2017
Home / অন্যান্য / ঘুষ বাণিজ্যঃ ‘সর্ষে ক্ষেতে ভূত’
Loading...

ঘুষ বাণিজ্যঃ ‘সর্ষে ক্ষেতে ভূত’

উপ-সম্পাদকীয়ঃ

রকিবুল সুলভঃ
৮ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে অনেকটা ঘটা করে একটি সংবাদ প্রচারিত হয়। সংবাদটি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করলেও সরকারের দৃষ্টি কতটুকু কেড়েছে বা টনক নড়েছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।

সংবাদটির শিরোনামঃ ‘ঘুষের টাকাসহ উপসচিব গ্রেপ্তার’। এরকম সংবাদ বাংলাদেশে অপরিচিত নয়। ঘুষ বাংলাদেশে এখন একটি সামাজিক রীতিতে পরিণত হয়েছে বলেই মনে হয়। বিভিন্ন সেবা পেতে গেলে আগে টেবিলের নিচ দিয়ে কর্তাকে কিছু(ঘুষ) না দিলে কি আর কাজ হয়?

সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পদে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী তার দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়মিত বেতন/ভাতা পাওয়া সত্ত্বেও যদি বাড়তি কিছু অবৈধ পন্থায় গ্রহণ করে তাহলে তা ঘুষ হিসাবে বিবেচিত। অনেক সময় স্বীয় অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ঘুষ দেওয়া হয়। আবার অনেক সময় টাকা-পয়সা ছাড়াও উপহারের নামে নানা সামগ্রী প্রদান করা হয়। সুতরাং যেভাবেই হোক, আর যে নামেই হোক তা ঘুষের অন্তর্ভুক্ত।

ঘুষ দেয়া নেয়ার রীতি বা কানুন এই ভারতীয় উপমহাদেশে কবে থেকে চালু হয়েছে তা আমার জানা নেই। বাংলাদেশের পাঠ্যবইগুলোতে শেখানো হয় ‘ঘুষ দেয়া ও নেয়া অপরাধ’। ঘুষের উৎপত্তি বিকাশ সম্পর্কে আমাদের পাঠ্যবইগুলোতে কিছু লেখা নেই। থাকলে হয়ত সেটাও ঘুষের বিনিময়ে পাল্টে যেত কিনা কে জানে?

যাই হোক, ঘুষের উৎপত্তি, বিকাশ ও বিস্তার নিয়ে আলোচনা বাদ দিয়ে আসল কথায় আসি। সংবাদপত্রের পৃষ্ঠা উল্টালেই দেখি ঘুষ নেয়ার অভিযোগ। ‘আসলে যা ঘটে তাই রটে’ প্রচলিত কথাটি ঘুষ কেলেঙ্কারির ক্ষেত্রে অনেকাংশেই সত্য।

ভুমি অফিস, থানা, সিভিল সার্জন অফিস, পাসপোর্ট অফিস,কাস্টমস, বিদ্যুত ও জ্বালানী, বন বিভাগ, ডাক ও তার, শিক্ষা সব ক্ষেত্রেই ঘুষের বিস্তার। এমনকি গরীবের ১০ টাকা কেজি দরে যে চাল বিক্রির কথা সেখানেও ঘুষের বিস্তার। চাকরি শেষে পেনশনের টাকা, সেটা পেতেও লাগে ঘুষ। সওজ, রেলওয়ে, অন্যান্য পরিবহণ, চাকরির নিয়োগ, পদোন্নতি পেতেও লাগে ঘুষ। বাংলাদেশে সরকার প্রদত্ত সেবা নিতে গেলে ঘুষ দিতে হয় এটা এক ধরণের ‘ওপেন সিক্রেট’। বলার সাহস কেও রাখেনা। সাহস করলেও তাঁর মাশুলও দিতে হয় বিভিন্ন হয়রানির মাধ্যমে।

টিআইবি প্রকাশিত গবেষণা তথ্য থেকে জানা গেছে যে বাংলাদেশে বছরে ঘুষ লাগে ৮৮২২ কোটি টাকা। আরো হিসেব বেরিয়েছে যে, গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়েছে সাড়ে চার লাখের চেয়েও বেশি টাকা। যা কিনা আমাদের বর্তমান বাজেটের মোট পরিমাণের চেয়ে দেড়গুণ বেশি, ও আমাদের জিডিপির এক চতুর্থাংশ।

আরও পড়ুন   হটাত করেই বেড়ে গেছে জাপা নেতাদের ভারত সফর

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ আমরা যে স্বপ্ন নিয়ে শুরু করেছিলাম তার অনেকটাই আজ নিষ্প্রভ এবং তা ঘুষ বাণিজ্যের সাথে সম্পূর্ণ বিপরীত। বাংলাদেশে সরকার পাল্টালেও পাল্টায়না ঘুষ দেয়া-নেয়ার চিত্র। পিয়ন থেকে শুরু করে বড়কর্তা কাকে ছেড়ে কাকে বলব ?

ঘুষের পরিমান কোন সরকারের আমলে কি রকম বা কতটুকু তা নিয়ে তর্ক করে আসলে লাভ নেই। শুধু কাল ক্ষেপন ছাড়া কিছু নয়। যেখানে দেশে বিচার বিভাগ স্বাধীন সেই দেশে ঘুষ দিয়ে সেবা নিতে হয় তা মেনে নেয়া সত্যিই কষ্টদায়ক। দেশের উচ্চ পর্যায়ের সরকারি আমলাগণের একাংশ যখন ‘ঘুষে’ মজে থাকেন তখন বলতেই হয় ‘সর্ষে ক্ষেতে ভূত’।

 

Loading...

Leave a Reply