ই-সিগারেটেও ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রমাণ! - Editortoday
BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
Friday , February 24 2017
Breaking News
Home / অন্যান্য / ই-সিগারেটেও ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রমাণ!

ই-সিগারেটেও ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রমাণ!

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এর কারণে ফুসফুস ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ হতে পারে। তাই ধূমপায়ীদের ধূমপানে আসক্তি কমাতে কিংবা বিরত রাখতেই তৈরি করা হয়েছিল ই-সিগারেট। আশা ছিল ধূমপায়ীদের কল্যাণে এটি ব্যাপক অবদান রাখবে। কিন্তু তা আর হল কই!

বর্তমানে এক গবেষণায় প্রমাণিত হয় ই-সিগারেটে ব্যবহৃত সুগন্ধ ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর। এতে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থগুলো ফুসফুস কোষের কার্যক্ষমতায় পরিবর্তন করতে পারে।

গবেষকরা ই-সিগারেটে থাকা ১৩ টি গন্ধের উপর পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। যার মধ্যে ৫ টিতে ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যায়। এই গবেষণার প্রধান লেখিকা আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের টপরেন্স রোয়েল এর মতে, ই-সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ সাধারণত ফুসফুসের সমস্যা করে থাকে। তিনি আরো বলেন, এর দ্বারা ক্ষতির পরিমাণ গৃহিত ই-সিগারেটের পরিমাণের উপর নির্ভর করে। রোয়েল তাঁর এই গবেষণা প্রতিবেদনটি ‘আমেরিকান থোরাসিক সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল কংগেস’ এ প্রদান করেন।

সাধারণত ব্যাটারী নিয়ন্ত্রিত ই-সিগারেট নিকোটিন ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থকে ধোঁয়ায় পরিবর্তন করে। তবে এতে থাকা রাসায়নিক পদার্থগুলো মানুষের জন্য বিষাক্তও হতে পারে। কারণ ই-সিগারেট স্বাস্থ্যগত দিক দিয়ে কতটা নিরাপদ,  ব্যবহৃত রাসায়নিকের ধরন, নিকোটিনের পরিমাণ ইত্যাদির কোন তথ্য ‘ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন’ (এফডিএ) কে জানানো হয়নি।

দীর্ঘদিন ই-সিগারেট ব্যবহার করলে নানাবিধ অজানা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। এসব কারণে এফডিএ থেকে ই-সিগারেটের কোন অনুমোদন দেয়নি। ধূমপানের আসক্তি থামাতে তারা নিকোটিন গাম, নিকোটিন লজেন্স, নিকোটিন স্প্রে ইত্যাদি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

এফডিএ, ই-সিগারেটে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী অনেক রাসায়নিক পদার্থের সন্ধান পেয়েছে। ২০১৫ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানা যায় ই-সিগারেটে যখন উচ্চ তাপমাত্রা সৃষ্টি হয় তখন সেটি থেকে প্রচুর ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ফরমালডিহাইট নিঃসৃত হয়।

সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) জানায়, এটা সত্য যে তামাকের সিগারেটের থেকে ই-সিগারেটের রাসায়নিক পদার্থ কম ক্ষতিকর ও নেশাদায়ক। কিন্তু এর যে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নেই তা নয়।

ই-সিগারেট প্রায় ১০ বছরের কম সময় হল মানুষ চিনতে শুরু করেছে। তবে এর ব্যবহার বর্তমানে দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। কম বয়স্ক যুবকদের মাঝে এর আকর্ষণ একটু বেশিই। আমাদের দেশেও পাওয়া যায়। এখন পর্যন্ত গবেষণায় এর নানাবিধ ক্ষতিকর দিকই বেরিয়ে আসতেছে। খুব শীঘ্রই এতে ব্যবহৃত সবগুলো রাসায়নিক পদার্থ সর্ম্পকে হয়তো তথ্য বেরিয়ে আসবে।

তখন ই-সিগারেট মুক্ত করতে আবার নতুন করে তামাকের সিগারেটের মত প্রচারণা চালানো লাগতে পারে। কিন্তু ততদিনে এই ই-সিগারেটের ধোঁয়া স্বাস্থ্যের কতটুকু ক্ষতি করবে তা কে জানে? যেহেতু এখন পর্যন্ত বেশকিছু ক্ষতিকর পদার্থ বেরিয়েছে তাই এটিকে এখনই বর্জন করা জরুরী নয় কী?

Leave a Reply