উঠতি বয়সীদের ‘গ্রুপিং’ : ‘কাঁচা বাঁশে ঘুণ ধরা’ – Editortoday
BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
Monday , May 1 2017
Breaking News
Home / অন্যান্য / উঠতি বয়সীদের ‘গ্রুপিং’ : ‘কাঁচা বাঁশে ঘুণ ধরা’

উঠতি বয়সীদের ‘গ্রুপিং’ : ‘কাঁচা বাঁশে ঘুণ ধরা’

উপ-সম্পাদকীয়ঃ

রকিবুল সুলভঃ

ছোটবেলায় বাগধারায় পড়েছি ‘কাঁচা বাঁশে ঘুণ ধরা’ মানে ‘অল্প বয়সে বিগড়ানো।’ বাগধারায় বাক্য রচনাও করেছি ‘শিশুকাল থেকে ছেলে-মেয়েদের দিকে নজর না রাখলে কাঁচা বাঁশে ঘুণ ধরবে।’

আসল কথায় আসি। এইতো কিছুদিন আগের কথা। কিছুদিন আগেই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে একটি সংবাদ প্রচার হয় । সংবাদটি ছিল এরকম …

“গত শুক্রবার (০৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর উত্তরা ১৩নং সেক্টর ১৭নং রোডে ‘ডিসকো গ্রুপ’র সদস্যরা হকিস্টিক ও চাপাতি নিয়ে আদনানের ওপর হামলা চালায়। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় আদনানকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”  (বাংলা নিউজ)

খবরটি পড়ে পাঠক আরেকবার শোকাগ্রস্থ হবেন, মুহূর্তের জন্য আপনার মনে হয়তো একটু সহানুভূতিরও আবির্ভাব ঘটতে পারে।

কিশোর আদনান হত্যার পেছনের কাহিনী দেখলে দেখা যায় যে, ফেসবুকের দু’টি গ্রুপ গড়ে তোলে এলাকার কিশোররা। যার একটি ‘নাইনস্টার’ ও অন্যটি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গড়ে তোলা ‘ডিসকো বয়েজ’ গ্রুপ। তারা নিজেদের গ্রুপ ভারী করতে অন্য সহপাঠীদের দলে টানতো। দল ভারী করা বা এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে প্রায়শই দ্বন্দ্ব লাগত। শেষ পর্যন্ত এই দ্বন্দ্ব রূপ নেয় এক নৃশংসতায়। এক গ্রুপের সদস্যদের হাতে নির্মমভাবে খুন হয় অপর গ্রুপের সদস্য কিশোর আদনান কবির।

আমরা প্রযুক্তির কল্যানে অনেকটাই সামাজিক হয়েছি। সামাজিক মাধ্যমে আমাদের এখন নিত্য বিচরণ। সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে জন্ম নেয় বিভিন্ন ‘বিষয় ভিত্তিক’ গ্রুপ। এখানেও চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তার ও দলভারী করার কাজ। আর প্রযুক্তির সহজপ্রাপ্যতার ফলে আমাদের দেশের উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েরাও এসব বিভিন্ন গ্রুপে যোগ দেয়।

ফেসবুকে গড়ে উঠা এসব গ্রুপে যোগ দেয়া অধিকাংশের বয়স ১৪- ১৮ বছরের মধ্যে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া এদের অধিকাংশই আবার উচ্চবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা। অনেকসময় টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন এলাকা ভিত্তিক গ্রুপে যোগ দিতে হয়। এসব গ্রুপ তাদের নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে সর্বদা সরব। এসব গ্রুপের নিয়ন্ত্রন নিয়ে দ্বন্দ্ব অনেক সময় সহিংস অবস্থায় রুপ নেয় এবং প্রাণ যায় আদনান কবির এর মত অনেকেরই।

এ ধরণের সামাজিক সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ যদি আমাদের বিশেষজ্ঞগণ, বুদ্ধিজীবীমহল এবং সরকার না খুঁজেন তাহলে ‘গ্রুপিং’ কিংবা ‘গ্যাং কালচার’ এর দ্বন্দ্বে অনেক ‘আদনান’র প্রাণ যাবে। এবং পরিবারের লক্ষ রাখতে হবে তাদের সন্তান কখন কোথায় যায়, কি করে। নয়ত কাঁচা বাঁশে ঘুণ ধরবেই।

Leave a Reply