বাংলায় আগ্রহ ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের – Editortoday
BIGtheme.net http://bigtheme.net/ecommerce/opencart OpenCart Templates
Sunday , April 30 2017
Breaking News
Home / অন্যান্য / বাংলায় আগ্রহ ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের

বাংলায় আগ্রহ ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সিলেবাস হিসেবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে আগ্রহ বাড়ছে ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের। মূলত ‘ঔপনিবেশিকতামুক্ত’ একটি সিলেবাস প্রণয়নের তাগিদ থেকেই বিদ্যমান পাঠ্যক্রম থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছেন অনেক শিক্ষার্থী। আর প্রত্যাশিত নতুন সিলেবাসে নিজেদের আগ্রহের বিষয় হিসেবে বাংলার প্রতি জোর দিয়েছেন ব্রিটিশ শিক্ষার্থীরা।

ঔপনিবেশিকতামুক্ত সিলেবাস প্রণয়ন সংক্রান্ত  প্রচারণার অংশ হিসেবে সিলেবাসে প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের মতো গ্রিক দার্শনিকদের বদলে এশিয়া ও আফ্রিকার দার্শনিকদেরও প্রতিস্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ (এসওএএস)-এর স্টুডেন্ট ইউনিয়ন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য অধ্যয়ন চালুর প্রস্তাব করেছে। সংগঠনটি   বলছে, ‘শুধু প্রয়োজন হলেই শ্বেতাঙ্গ দার্শনিক’দের অধ্যয়ন করা উচিত এবং এটা পুরোপুরি ‘সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি’ থেকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি স্টুডেন্ট ইউনিয়নের প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, “আমাদের কোর্সগুলোর বেশিরভাগ দার্শনিক বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চল বা ওই অঞ্চলের প্রবাসী। এসওএএস-এর মনোযোগের মধ্যে রয়েছে এশিয়া ও আফ্রিকা। সুতরাং তাদের থিওরিগুলোতে এশীয় বা আফ্রিকান দার্শনিকদের উপস্থাপন করা উচিত। শ্বেতাঙ্গ দার্শনিকদের যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তাদের কাজ শেখানো যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, দার্শনিকরা যেখানে কথিত ‘আলোকবর্তিকা’র কথা লিখেছেন সেখানে ঔপনিবেশিক প্রেক্ষাপট স্বীকার করে নেওয়া।”

স্টুডেন্ট ইউনিয়নের এমন মতামতের প্রতি সমর্থন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সোসাইটি। এখানে ‘ঔপনিবেশিকতামুক্ত’ স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ (এসওএএস)-এর প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ ক্যাম্পেইনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডিকলোনাইজ এসওএএস’। এর মধ্য দিয়ে মূলত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যমান ঔপনিবেশিকতার কাঠামোগত উত্তরাধিকারের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।

এসওএএস-এর প্রোডিরেক্টর (শিক্ষা ও শিক্ষণ) ড. দেবোরাহ জনস্টন বলেন, ‘এসওএএস-এর একটা বড় শক্তি হচ্ছে আমরা যে অঞ্চলগুলো (এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য) নিয়ে অধ্যয়ন করি সবসময় সে দৃষ্টিকোণ থেকে আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোকে বিবেচনা করি। ’

তিনি বলেন, ‘অবগত এবং সমালোচনামূলক বিতর্ক এবং পাঠ্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা আমাদের একটি স্বাস্থ্যসম্মত এবং অ্যাকাডেমিক উদ্যোগের একটি যথাযথ অংশের শিক্ষা দেয়।’

এসওএএস-এর ধর্ম ও দর্শন বিষয়ক প্রধান এরিকা হান্টার অবশ্য শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একমত নন। তিনি এমন দাবিকে ‘বরং হাস্যকর’ মনে করেন।

দ্য টেলিগ্রাফ-কে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু ফ্যাশনেবল হওয়ার কারণে দার্শনিক ও ঐতিহাসিকদের বাদ দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করছি।’

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতেও অনেকে বিষয়টি নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এসওএএস-এর স্টুডেন্ট ইউনিয়নের দাবির প্রতি সমর্থন দিয়েছে লন্ডনের কিংস কলেজের পিপল অব কালার অ্যাসোসিয়েশন।

Leave a Reply